হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উৎসব শারদীয় শ্রীশ্রী দূর্গা পূজা। দুর্গোৎসবকে ঘিরে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জমিদার রায় সাহেব ঈঁশান বাবুর বাড়ীতে জাঁকজমক পূর্ণভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন বিধিবিধান, মাঙ্গলিক আচার ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে ১৪৮ তম শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে।
সমাজের অন্যায় অবিচার অশুভ ও অসুরশক্তির দমনে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে ঈঁশান বাবুর বাড়ীতে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে যুগযুগ ধরে দুর্গাপূজা করে আসছে। দুর্গাপূজাকে ধরে রাখতে বর্তমানে ঈশান চন্দ্র সরকারের পঞ্চম প্রজন্মরা প্রতিবছর দুর্গা দেবীর পূজা করে আসছে।
পূজার অংশ হিসেবে (২৮ সেপ্টেম্বর) রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে বর্ষ অনুযায়ী পুকুর ঘাটলায় ১৪৮ টি মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করে কলার ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে দলে দলে দর্শনার্থীরা এই দৃশ্য দেখার ভীড় জমায়। এযেন এক অপূর্ব সুন্দর দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের
মধ্য দিয়ে মহাষষ্ঠী পূজা অর্চনা ও মণ্ডপে সন্ধ্যা আরতী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, সিটি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব গোবিন্দ বাকচিসহ ঈঁশান বাবুর পরিবারবর্গ ও আগত দর্শনার্থীরা অংশগ্রহন করে।
পূজায় নিরাপত্তা হিসাবে আনসার বাহিনী থেকে নিয়োজিত মোট আটজন সদস্য ও একজন গ্রাম পুলিশ মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাবু বাড়ীর মেজো পুত্র উৎপল সরকার (সাগর) জানান, উৎসব ও পার্বনের দেশ বাংলাদেশ। এখানে বসবাসরত মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের নিজ নিজ ধর্মের রীতিনীতি ও প্রথা অনুসারে বছরের বিভিন্ন সময় নানা ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকে। যেমন মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, খ্রিস্টানদের শুভ বড়দিন, স্টার সানডে ইত্যাদি, বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা ইত্যাদি, হিন্দুদের তেমনি দুর্গোৎসব, দোলপূর্ণিমা, রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী ইত্যাদি। এই উৎসব প্রতি বছর ষাড়ম্বরে প্রতিপালিত হয়ে থাকে। প্রতি বছর ধর্মীয় বিভিন্ন বিধিবিধান, আচার ও অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপন করে থাকি। এদের মধ্যে দুর্গোৎসব হচ্ছে আমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বিনিময় হয় আমাদের পরস্পর কুশলাদি। ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবাই মিলে আনন্দ সমানভাগে ভাগাভাগি করি এই আমার প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, মহালয়ার দিন প্রভাতে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দুর্গা দেবীর আর্বিভাব শুরু, এরই সাত দিন পরেই মহাপঞ্চমী, মহাষষ্ঠিতে বোধন ও মহাষষ্ঠী বিহিত পূজা, সপ্তমীতে সপ্তমী বিহিত পূজা, অষ্টমীতে অষ্টমী বিহিত পূজা ও কুমারী পূজা, নবমী ও দশমীতে দশমী পূজা শেষে দর্পন বিসর্জন ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।