ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যমানের ১২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দের পর পদ্মা পারে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে ৩ কেজি মা ইলিশ আটক করে আটককৃত মাছগুলো রিক্সা ও ভ্যান চালকদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ ইলিশ হাতে পেয়ে দুস্থ পরিবারগুৃলো উল্লাস প্রকাশ করেছেন।
রিক্সা চালক হাতেম শেখ উল্লাস প্রকাশ করে বলেন, “ইলিশ মাছের যে দাম তাতে প্রজনন মৌসুমেতো দুরের কথা, সারা বছরেও আমরা ইলিশ খেতে পারি না। আজ উপজেলা মৎস্য অফিসার মানবতা দেখিয়ে আমাগো ইলিশ মাছ দিছে। আমরা খুব খুশি, অনেক দিন পর পুলাপান লইয়্যা ইলিশ খাইতে পারুম”।
জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব, ক্ষেত্র সহকারী শামিম আরফিন, চরভদ্রাসন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থেকে ইলিশ রক্ষা অভিযান সম্পন্ন করেছেন। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যাবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মোল্যা এমদাদুল্লাহর দিক নির্দেশনায় এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকারের তত্ত্বাবধানে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা যায়।
মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার উপজেলা পদ্মা নদীর দিয়ারা গোপালপুর মৌজার জলমহল, ভাটি শালেপুর, চরশালেপুর, উজান শালেপুর, চরহরিরামপুর, হাজারবিঘা চর, নমুর ছ্যাম, জাকেরের সুরা, চর হাজিগঞ্জ, চর তাহেরপুর, চর মির্জাপুর ও চরকল্যানপুর সহ বিভিন্ন জল সীমানায় অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এতে ১২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয় এবং ৩ কেজি মা ইলিম আটক করা হয়। এ ব্যপারে উপজেলা মৎস্য অফিসার নাইম হোসেন বিপ্লব জানান, “ পদ্মা নদীতে অভিযানের টের পেয়ে প্রায় সব দুর্বৃত্ত জেলেরা জাল ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে জেলেদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নাই। কিন্তু নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও আটক মাছ জব্দ করা হয়েছে